রবিবার, ৩ ফেব্রুয়ারি, ২০১৩


গ্রামগঞ্জের আনাচ-কানাচে ‘বলবর্ধক’ পানীয়র ছড়াছড়ি
রংপুরের বদরগঞ্জে বিভিন্ন বেকারি, কনফেকশনারি, মুদি ও পান-বিড়ি-সিগারেটের দোকানে অবাধে বিক্রি হচ্ছে কথিত ‘বলবর্ধক’ পানীয়। সব বয়সের মানুষই এসব পানীয় পান করছে। এই পানীয় পানের ফলে তরুণদের মধ্যে উচ্ছৃঙ্খলতা ও অপরাধপ্রবণতা বেড়ে যাওয়ার আশঙ্কা করছেন অনেকে।
জানা গেছে, উপজেলার ৪৫টি হাটবাজারসহ গ্রামগঞ্জের অলিতে-গলিতে গড়ে ওঠা এসব দোকানে বিভিন্ন পণ্যের পাশাপাশি অবাধে বিক্রি হচ্ছে এসব পানীয়। এর মধ্যে রয়েছে মন পাওয়ার আপ, পাগলু-২, ম্যান পাওয়ার, ডাবল হর্স, জিনসিন, ভিগো-বি, হর্স ফিলিংস, হাই পাওয়ার, ফিলিংস, রয়েল টাইগার, ব্ল্যাক হর্স ও পাগলু ফিলিংস।
পাগলু ফিলিংসের বোতলে লেখা রয়েছে ‘বিএসটিআই কর্তৃক উদ্ভাবিত এবং পরীক্ষিত, লাইসেন্স নং ১১২৫৬, নন কার্বোনেট-নন অ্যালকোহল’। ডাবল হর্সের বোতলের গায়ে লেখা আছে ‘পুষ্টি ও খাদ্যবিজ্ঞান ইনস্টিটিউট, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় পরীক্ষিত ও অনুমোদিত’। হর্স ফিলিংসে লেখা আছে ‘এটা বিএসটিআইয়ের আওতাভুক্ত পণ্য নয়’।

তবে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের পুষ্টি ও খাদ্যবিজ্ঞান ইনস্টিটিউটের পরিচালক আমিনুল হক ভূঁইয়া প্রথম আলোকে বলেন, ইনস্টিটিউটের পক্ষ থেকে এমন কোনো পরীক্ষা বা অনুমোদন করা হয়নি। সরকারের উচিত ওই সব প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ওষুধ প্রযুক্তি বিভাগের অধ্যাপক আ ব ম ফারুক বলেন, ‘আরও কড়া নেশার দিকে ধাবিত হয় ওই পানীয় গ্রহণকারীরা। যৌন উত্তেজক পদার্থ সিলডেনাফিল সাইট্রেট মেশানো পানীয় পর্যায়ক্রমে পুরুষত্ব নষ্ট করে ফেলবে।’
গত ৮ জানুয়ারি প্রথম আলোর প্রথম পৃষ্ঠায় প্রকাশিত ‘সাত ধরনের পানীয়তে ক্ষতিকর উপাদান’ শিরোনামে প্রকাশিত সংবাদে বলা হয়, মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর বাজার থেকে সংগৃহীত বিভিন্ন পানীয়ের নমুনা নিজেদের কেন্দ্রীয় রাসায়নিক পরীক্ষাগারে পরীক্ষা করে সাত ধরনের পানীয়তে স্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর উপাদান পায়। এর মধ্যে ম্যান পাওয়ার, হর্স ফিলিংস, রয়েল টাইগার, ব্ল্যাক হর্স ও ভিগো-বি রয়েছে। ম্যান পাওয়ার, হর্স ফিলিংস ও ভিগো-বি পানীয় পরীক্ষা করে রাসায়নিক দ্রব্য ‘অপিয়াম উদ্ভূত অপিয়েট’ ও ‘সিলডেনাফিল সাইট্রেট’ পাওয়া গেছে।
ওই দুটি রাসায়নিক দ্রব্য ‘ওষুধ নিয়ন্ত্রণ অধ্যাদেশ ১৯৮২’ অনুযায়ী নিষিদ্ধ। অন্যান্য নামে বিক্রীত পানীয়তেও একই ধরনের ক্ষতিকর উপাদান থাকতে পারে বলে রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের চিকিৎসক আবদুল্লাহ আল মামুন জানিয়েছেন। তিনি বলেন, ‘শিগগির এসব পানীয় বাজার থেকে তুলে নেওয়া দরকার। পাশাপাশি অভিযান চালিয়ে এর উৎপাদন ও বিক্রি বন্ধ করে দেওয়া উচিত। কারণ এগুলো বেশি পান করলে যৌন রোগসহ কিডনি ও হূদেরাগ দেখা দিতে পারে।’
নাম প্রকাশ না করার শর্তে একাধিক বিক্রেতা জানান, বলবর্ধক পানীয়ের ক্রেতা তরুণ ও যুবকেরা। অনেকে কৌতূহলবশত কিনে পান করছেন। নাম ভেদে প্রতি বোতল বলবর্ধক পানীয় বিক্রি হচ্ছে ৪৫ থেকে ৭০ টাকায়।
ওই পানীয় পান করেছেন এমন তিন তরুণ জানান, এটা পান করার এক ঘণ্টার মধ্যে মাথা ভারবোধসহ শরীর ঝিমঝিম করে। অনেক সময় হাত-পা ও মাথা ঘামে।
নাগেরহাট বাজারের ব্যবসায়ী হারুন অর রশিদ বলেন, ‘কোম্পানির লোকজন বলেছেন, “এগুলো বিক্রিতে বাধা নেই। লাইসেন্স আছে।” সপ্তাহে দুই দিন তাঁরা গাড়িতে করে নিয়ে এসে আমাদের দিয়ে যান।’
বদরগঞ্জ ব্যবসায়ী সমিতির প্রতিষ্ঠাতা সাধারণ সম্পাদক সাজ্জাদ হোসেন জানান, এসব পানীয় পান করার কারণে সমাজে উচ্ছৃঙ্খলতা ও অপরাধপ্রবণতা বৃদ্ধি পেয়েছে।
বদরগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ইসতিয়াক আহম্মেদ জানান, অবৈধ পানীয় বিক্রি বন্ধে বাজারে অভিযান চালানো হবে।
http://www.prothom-alo.com/detail/date/2013-02-02/news/326008

কোন মন্তব্য নেই:

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন