সোমবার, ২৮ জানুয়ারি, ২০১৩

আত্মহত্যা ঠেকাতে

আত্মহত্যা ঠেকাতে


undefined
সমকাল ডেস্ক
আত্মহত্যা ঠেকাতে আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহার করছে দক্ষিণ কোরীয় কর্তৃপক্ষ। রাজধানী সিউলে হ্যান নদীর ওপর দুটি সেতুতে বসানো হয়েছে ক্লোজ সার্কিট ক্যামেরা। কেউ নদীতে লাফিয়ে পড়ে আত্মহত্যার প্রস্তুতি নিলে অ্যালার্ম বাজবে। তিন মিনিটের মধ্যে সেখানে পেঁৗছে যাবেন জরুরি বিভাগের কর্মীরা। গত বছর হ্যান নদীতে লাফিয়ে পড়ে আত্মহত্যা করেছেন ১৯৬ জন। তাদের মধ্যে ৯০ শতাংশই বেছে নিয়েছেন ম্যাপো

সেতুকে। টিভি ক্যামেরা বসানো দুটি সেতুর মধ্যে এই সেতু অন্যতম। কর্তৃপক্ষ বলেছে, এ ব্যবস্থায় কাজ হচ্ছে এমন প্রমাণ পেলে আগামী মার্চের পর অন্যান্য সেতুতেও সিসিটিভি বসানো হবে।
আত্মহত্যা নিরুৎসাহিত করতে ম্যাপো সেতুতে এর আগেও নেওয়া হয়েছে নানা ব্যবস্থা। একটি সাইনবোর্ডে লেখা হয়েছে 'আপনার জীবনে সেরা সময়টা এখনও আসেনি।' সেতুর মাঝামাঝিতে বসানো হয়েছে মূর্তি। বয়স্ক এক ব্যক্তি অপেক্ষাকৃত হতাশাগ্রস্ত এক তরুণের গালে ধরে আদর করছেন আর তার অন্য হাত তরুণের কাঁধে। বয়স্করা তরুণদের পথ দেখাতে এমন ভাব ফুটিয়ে তোলা কিংবা জীবনের ব্যাপারে উৎসাহী করে তুলতে বসানো বিভিন্ন সাইনবোর্ডে কাজ হয়েছে খুবই কম। ম্যাপো সেতুতে আত্মহত্যার হার বাড়ছেই। ২০০৩ সালে এই সেতু থেকে লাফিয়ে আত্মহত্যা করেন ৫৭ জন। শিক্ষার ব্যাপারে চাপ এবং পছন্দমতো কাজ না পাওয়া ইত্যাদি নানা কারণে আত্মহত্যার প্রবণতা বাড়ছে। অর্থনীতিতে দ্রুত উন্নতি ঘটানো দক্ষিণ কোরিয়ায় জীবনযাত্রার মান অনেক বেড়েছে। সেই সঙ্গে দ্রুত ভেঙেছে পুরনো সমাজ ব্যবস্থা। এর সঙ্গে খাপ খাওয়ানো অনেকের পক্ষেই কঠিন হয়ে পড়েছে। অর্গানাইজেশন অব ইকোনমিক কো-অপারেশন অ্যান্ড ডেভেলপমেন্টের সদস্য দেশগুলোর মধ্যে দক্ষিণ কোরিয়ায় আত্মহত্যার হার সবচেয়ে বেশি। ২০১০ সালে দেশটিতে গড়ে এক লাখ লোকের মধ্যে ৩৩ দশমিক ৫ জন আত্মহত্যা করেছেন। হাঙ্গেরিতে প্রতি লাখে ৩৩ দশমিক ৩ আর জাপানে ২১ দশমিক ২ জন আত্মহত্যা করেছেন। দক্ষিণ কোরিয়ায় গড়ে প্রতিদিন আত্মহত্যা করেন ৫০ জন। ২০০০ সালে গড়ে প্রতি লাখে আত্মহত্যা করেছেন ১৩ দশমিক ৬ জন। ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস অনলাইন।
১২ জানুয়ারি ২০১৩ 

কোন মন্তব্য নেই:

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন