বৃহস্পতিবার, ৩১ জানুয়ারি, ২০১৩

জীব বৈচিত্র্য


undefined

জীব বৈচিত্র্য
ঢাকা: পৃথিবীতে রয়েছে তিন সহস্রাধিক প্রজাতির সাপ। প্রাগৈতিহাসিক যুগের ডাইনোসরাসের দাপুটে আমল থেকেই সাপের বিচরণ পাওয়া গেছে বলে ধারণা বিজ্ঞানীদের।
এসব সাপের দৈহিক কাঠামো যেমন বৈচিত্রময়, তেমনি বিচিত্র বর্ণের বটে। আবার কোন কোনটির শরীরী অবয়বকে রীতিমতো কিম্ভূতকিমাকারই বলা যায়।
খাদ্যাভাসও এক নয় সব সাপের। এক নয় শিকার ধরার কৌশলও। হেরফের আছে বিষদাঁত আর বিষেও।
এমনই কিছু বিরল সাপের বিচিত্র জীবন নিয়েই এ লেখার অবতারণা।
হাতি শুঁড় সাপ (Elephant trunk snake)
নাম শুনলেই বোঝা যায় এ সাপটি অদ্ভুত না হয়ে যায় না। হাতির শুঁড়ের মতো বেঢপ আর ভাঁজ পড়া ত্বকের কারণেই সাপটির এ ধরনের নাম। ইন্দোনেশিয়ায় বসবাস হলেও অস্ট্রেলিয়ায় এদের কিছু আত্মীয় খুঁজে পাওয়া যায়।

এদের আঁশের ধরনও অদ্ভূত। বড় ও গিটযুক্ত আঁশের কারণে এ সাপের আরেক নাম ‘আঁচিল সাপ’। এরা সাধারণত আড়াই মিটার পর্যন্ত লম্বা হয়। হাতি শুঁড় সাপেরা পুরোপুরিভাবেই পানিতে বসবাস করে। মাটিতে এরা একদমই থাকতে পারে না।

অন্যান্য সাপের মতো পেটের নীচে বড় আঁশ না থাকায় এরা মাটিতে পিছলে চলতে পারে না। ক্যাট ফিস ও বাইন মাছ এদের প্রিয় খাদ্য। গিঁটযুক্ত আঁশের কারণে এরা পানির ভেতরেই পিচ্ছিল মাছগুলোকে সহজে ধরে পিষে মেরে ফেলতে পারে।

মানুষ যা করতে পারে (ছবি পোষ্ট)

অদ্ভূত যত মানুষের ছবি
১.
২.
কান দিয়ে হেলিকপ্টার টানছেন লাসা প্যাটারেইয়া
http://rakomari.blogspot.com/2010_10_01_archive.html

বুধবার, ৩০ জানুয়ারি, ২০১৩

মানুষ যা করতে-লালচে চুলের জন্য ডিএনএ পরীক্ষা


মানুষ যা করতে পারে-ধারাবাহিক

লালচে চুলের জন্য ডিএনএ পরীক্ষা

প্রথম আলো ডেস্ক | তারিখ: ৩০-০১-২০১৩




অনাগত সন্তানের চুলের রং লালচে হলুদ (জিনজার) হবে কি না, ডিএনএ পরীক্ষার মাধ্যমে কৌতূহলী দম্পতিরা তা সহজেই জানতে পারবেন। যুক্তরাজ্যের রাজধানী শহর লন্ডনে আগামী মাসে অনুষ্ঠেয় এক প্রদর্শনীতে দর্শনার্থীদের ওপর এ পরীক্ষা চালাবেন বিজ্ঞানীরা।
এমসিওয়ানআর নামের একটি জিনের উপস্থিতির কারণে মানুষের চুল জিনজার রঙের হয়। ব্যক্তির বংশগতির বৈশিষ্ট্য ধারণকারী জিনের ডিএনএ পরীক্ষার জন্য তাঁর মুখের লালা পরীক্ষা করা হবে। জিনজার জিন (এমসিওয়ানআর) শনাক্তকরণের এই পরীক্ষায় মানুষের পূর্বপুরুষও শনাক্ত করা যায়।
জিনজার জিনটি ডিএনএতে প্রচ্ছন্নভাবে উপস্থিত থাকে এবং পরবর্তী প্রজন্মে সঞ্চারিত হয়। মা ও বাবা উভয়ে এই জিন বহন করলে তাঁদের চার সন্তানের মধ্যে কেবল একজনের চুলের রং লাল হওয়ার সম্ভাবনা থাকে। এ ছাড়া ওই দম্পতির সন্তানদের দুজনের একজন জিনটি বহন করে। ওই দম্পতির কেবল একজনের ডিএনএতে জিনজার জিন থাকলে সন্তানের চুল লাল হবে না, কিন্তু ওই বৈশিষ্ট্য আংশিকভাবে পরবর্তী প্রজন্মে সঞ্চারিত হবে। জিনবিজ্ঞানী জিম উইলসন বলেন, প্রজন্মের পর প্রজন্ম ধরে জিনজার জিন সঞ্চারিত হয়ে থাকে। তাই মা ও বাবার মধ্যে কারও চুলের রং জিনজার না হলেও লাল চুল নিয়ে তাঁদের সন্তান জন্ম নিতেও পারে।
লন্ডন অলিম্পিয়া নামের প্রদর্শনীকেন্দ্রে দর্শনার্থীরা ‘হু ডু ইউ থিংক ইউ আর?’ নামের অনুষ্ঠানে ওই পরীক্ষার সুযোগ পাবেন। ব্রিটেনে প্রতি ১০ জনে চারজনের জিনে লালচুলো সন্তান জন্মদানের ‘বিস্ময়কর’ বৈশিষ্ট্য রয়েছে বলে ধারণা করা হয়। টেলিগ্রাফ।
http://www.prothom-alo.com/detail/date/2013-01-30/news/325133

মঙ্গলবার, ২৯ জানুয়ারি, ২০১৩

গামা-রে বিস্ফোরণ



বিজ্ঞান
গামা-রে বিস্ফোরণ


শিল্পীর চোখে দুটি নিউট্রন নক্ষত্রের সংঘর্ষের দৃশ্য
আসিফ
অষ্টম শতাব্দীর দিকে মারাত্মক গামা-রে বিস্টেম্ফারণের ধাক্কা পৃথিবীতে এসে লেগেছিল। এটা নাকি মিল্কিওয়ে গ্যালাক্সির সবচেয়ে শক্তিশালী গামা-রে বিস্টেম্ফারণের একটি ছিল। এর কারণ হিসেবে বিজ্ঞানীরা কয়েক হাজার আলোকবর্ষ দূরের দুটি নিউট্রন নক্ষত্রের পারস্পরিক সংঘর্ষকে দায়ী করেছেন। এতে বিপুল পরিমাণে গামা-রে শক্তি মুক্ত
হয়েছিল। সেই আঘাতের চিহ্ন বিভিন্ন উদ্ভিদ এবং বরফের মধ্যে রয়ে গেছে। গামা-রে হলো দৃশ্যমান আলোর মতো এক ধরনের বিদ্যুৎ-চুম্বকীয় তরঙ্গ। তবে কম্পনাঙ্ক হার ১০ হাজার গুণ বেশি, যা ১০ ফুট কংক্রিটের দেয়াল ভেদ করে লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হানতে পারে। এ ধরনের গামা-রের চিহ্ন পরমাণু বা হাইড্রোজেন বোমা বিস্টেম্ফারণে লক্ষ্য করা যায়। এই গামা-রে বিস্টেম্ফারণের উৎস রয়্যাল অ্যাস্ট্রোনমিক্যাল সোসাইটির মাসিক জার্নালের শেষ সংখ্যায় প্রকাশিত হয়েছে। গামা-রে বিস্টেম্ফারণের চিহ্ন আবিষ্কৃত হয়েছিল ১৯৬০ সালে কৃত্রিম উপগ্রহের মাধ্যমে। এই বিস্টেম্ফারণের উৎস ছিল পৃথিবীতে বিস্ফোরিত নিউক্লিয়ার বোমা সূর্যের চেয়ে মিলিয়ন-ট্রিলিয়ন গুণ তীব্র।
প্রকৃতিতে রেখে যাওয়া চিহ্ন
২০১২ সালেই গবেষকরা মধ্যযুগে পৃথিবীতে গামা রশ্মির তীব্র আঁচের সাক্ষ্য-প্রমাণ পেয়েছিলেন পৃথিবীর উদ্ভিদ জীবন এবং বরফে। এ ব্যাপারে জাপানের প্রাচীন সিডার গাছের কথা উল্লেখ করেছেন তারা। সেখানে কার্বন মৌলের আইসোটোপ তেজস্ক্রিয় কার্বন-১৪-এর অস্বাভাবিক মাত্রা লক্ষ্য করা গেছে। এন্টার্কটিকার বরফেও এ ধরনের তেজস্ক্রিয়তা পর্যবেক্ষণ করা গেছে। তবে তা বেরিলিয়াম মৌলিক পদার্থের আইসোটোপ তেজস্ক্রিয় বেরিলিয়াম-১০-এর। আবহমণ্ডলের উপরের অংশে নাইট্রোজেন পরমাণুতে তীব্র বিকিরণের আঘাতে এ ধরনের আইসোটোপের সৃষ্টি হয়।
প্রথম দিকে গবেষকরা এ ঘটনার পেছনে সুপারনোভা অর্থাৎ বিস্ফোরণোন্মুখ নক্ষত্রের ভূমিকা আছে বলে মনে করেছিলেন। পরে এটা বাতিল হয়ে যায়। এ রকম ঘটলে এখনও সেখান থেকে নিক্ষিপ্ত এবং সরে যাওয়া টুকরোগুলোকে টেলিস্কোপে দেখা যেত। পরে যুক্তরাষ্ট্রের আরেক দল গবেষক বলেন, অস্বাভাবিক বিশাল সৌর ফ্লেয়ার বা সূর্যের পৃষ্ঠ থেকে আগুনের উচ্ছ্বাস পৃথিবীতে এসে ঝাপটা মেরেছিল। সাধারণভাবে এই সময়গুলোতে সূর্যপৃষ্ঠ থেকে প্রতি সেকেন্ডে ১৬ হাজার কোটি মেগাটন শক্তি নিঃসরণ হয়, যা হিরোশিমায় নির্গত পরমাণু বোমার চেয়ে কোটি কোটি গুণ বেশি।
এরপরই জার্মান পদার্থবিজ্ঞানীরা জানান, লাখ আলোকবর্ষের ব্যাপ্তি নিয়ে থাকা মিল্কিওয়ে গ্যালাক্সিতে প্রচণ্ড এক ভারী বিস্ফোরণ সংঘটিত হয়েছিল। দুটি গ্যালাক্টিক বস্তুর সংঘর্ষের ফলে সৃষ্ট বিস্টেম্ফারণের প্রবল বিকিরণের ঢেউ গ্যালাক্সিব্যাপী ছড়িয়ে পড়ে। এই গ্যালাক্টিক বস্তুগুলো হতে পারে নিউট্রন নক্ষত্র এমনকি কৃষ্ণগহ্বর পর্যন্ত। সূর্যের চেয়ে ৯ গুণ বেশি ভরের বস্তুই এ ধরনের পরিণতি বরণ করে। ১৯৩২ সালে নিউট্রন কণা আবিষ্কারের পর পর ডেভিডোভিচ ল্যান্ডাউ প্রথমে নিউট্রন নক্ষত্রের কথা বলেছিলেন। এ ধরনের নক্ষত্রে ইলেক্ট্রন-প্রোটন বলে কিছু থাকে না। পুরো নক্ষত্রটিই প্রকাণ্ড এক নিউট্রনের পি । সূর্যের মতো নক্ষত্রের যদি এই পরিণতি হয় তাহলে তার ব্যাস হবে মাত্র ১০ থেকে ৩০ কিলোমিটার। অনেকটা নারায়ণগঞ্জ শহরের মতো। মজার ব্যাপার হচ্ছে পৃথিবীতে চা চামচের এক চামচ নিউট্রন নক্ষত্রের পদার্থের ওজন হলো ৫শ' কোটি টন। আর মানুষকে নিউট্রনের ঘনত্ব দিলে তার আকৃতি আলপিনের সমান হবে।
এই গবেষণাপত্রের লেখক এবং জেনা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইনস্টিটিউট অব অ্যাস্ট্রোফিজিক্সের প্রফেসর র‌্যালফ নেউহসার (জধষঢ়য ঘবঁযধঁংবৎ) বলেছেন, কয়েক সেকেন্ডের সংক্ষিপ্ত গামা-রে বিস্ফোরণের বর্ণালির দিকে তাকিয়ে আশ্চর্য হয়ে লক্ষ্য করলাম, এটি সন্ধান পাওয়া কার্বন-১৪ ও বেরিলিয়াম-১০-এর উৎপাদন হারের সঙ্গে সম্পূর্ণ সঙ্গতিপূর্ণ। কৃষ্ণগহ্বর, নিউট্রন নক্ষত্র বা সাদা বামন নক্ষত্রের বিস্ফোরণে এ ধরনের বিশাল শক্তির বিস্ফোরণ ঘটে। যুক্তরাষ্ট্রের ক্যানসাস বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রফেসর অ্যাডরিয়ান মেলট বলেছেন, যদিও এই সংক্ষিপ্তকালের গামারশ্মির বিস্টেম্ফারণ একটা সম্ভাব্য উপসংহার, তবে সোলার ফ্লেয়ারের ধারণাটিও গুরুত্বপূর্ণ ।
এই গামা-রে বিস্ফোরণ খুবই দুর্লভ। বিজ্ঞানীরা জানিয়েছেন, গ্যালাক্সিতে খুব বেশি হলে প্রতি ১০ হাজার বছরে একবার এমনটি ঘটে। মজার ব্যাপার হচ্ছে, এ রকম একটি নাটকীয় ঘটনা সম্পর্কে মধ্যযুগের পূর্বপুরুষরা অবগতই ছিলেন না। তখন জাতিগোষ্ঠীগুলো তাদের অস্তিত্ব বজায় রাখার মরণ লড়াইয়ে ব্যস্ত। ধর্ম আর বিজ্ঞানে দ্বন্দ্বের মধ্য দিয়ে পৃথিবী যাচ্ছে_ হাইপেশিয়া, আর্যভট্ট, খনা, ইবনে সিনা, গ্যালিলিও গ্যালিলি, ব্রুনো আরও কত নাম এই সময়ের বলি। প্রফেসর র‌্যালফ নেউহসার বলেন, এ ধরনের বিস্ফোরণ হাজার আলোকবর্ষ না হয়ে শত আলোকবর্ষ দূরে ঘটলেও এটা ধ্বংস করে ফেলত পৃথিবীর ওজোনস্তর ও প্রাণিজগৎকে। নিজেদের অজান্তেই মহাজাগতিক বিপর্যয়ের মুখোমুখি হতো পৃথিবী।
http://samakal.net/details.php?news=14&action=main&menu_type=&option=single&news_id=324517&pub_no=1303&type=
বুধবার | ৩০ জানুয়ারি ২০১৩ | ১৭ মাঘ ১৪১৯ | 

স্বামী-স্ত্রীর অধিকার



শুরু করছি আল্লাহর নামে যিনি পরম করুণাময়, অতি দয়ালু

লেখকঃ আখতারুজ্জামান মোহাম্মাদ সুলাইমান
বিবাহ স্বামী-স্ত্রীর মাঝে একটি সুদৃঢ় বন্ধন। আল্লাহ তাআলা এর চির স্থায়িত্ব পছন্দ করেন, বিচ্ছেদ অপছন্দ করেন। এরশাদ হচ্ছে:
তোমরা কীভাবে তা (মোহরানা) ফেরত নিবে ? অথচ তোমরা পরস্পর শয়ন সঙ্গী হয়েছ এবং তোমাদের নিকট সুদৃঢ় অঙ্গীকার গ্রহণ করেছে। [নিসা : ২১]
এ চুক্তিপত্র ও মোহরানার কারণে ইসলাম স্বামী-স্ত্রী উভয়ের মাঝে কতক দায়দায়িত্ব ও অধিকার নিশ্চিত করেছে। যা বাস্তবায়নের ফলে দাম্পত্য জীবন সুখী ও স্থায়ী হবে—সন্দেহ নেই। সে সব অধিকারের প্রায় সবগুলোই সংক্ষেপ আকারে বর্ণিত হয়েছে কোরআনের আয়াতে:
যেমন নারীদের উপর অধিকার রয়েছে, তেমন তাদের জন্যও অধিকার রয়েছে ন্যায্য-যুক্তিসংগত ও নীতি অনুসারে। তবে নারীদের উপর শ্রেষ্ঠত্ব পুরুষদের। আল্লাহ পরাক্রমশালী, প্রজ্ঞাময়। [বাকারা : ২২৭]
আল্লাহ তাআলা এই আয়াতে বর্ণনা করেছেন যে, প্রত্যেকের উপর প্রত্যেকের অধিকার রয়েছে। যদিও আনুগত্য এবং রক্ষনা-বেক্ষন ও অভিভাবকত্বের বিবেচনায় শ্রেষ্ঠত্ব পুরুষদের।এখানে আমরা স্বামী-স্ত্রী উভয়ের মাঝে বিরাজমান কিছু গুরুত্বপূর্ণ অধিকার স্তর ও মানের ভিত্তিতে উল্লেখ করছি।

 প্রথমত:

যে সব অধিকারের ক্ষেত্রে স্বামী-স্ত্রী উভয়ে সমান:

 দাম্পত্য জীবনে পারস্পরিক সততাবিশ্বস্ততা ও সদ্ভাব প্রদর্শন করা

যাদের মাঝে নিবিড় বন্ধুত্ব, অঙ্গাঙ্গি সম্পর্ক, অধিক মেলামেশা, সবচেয়ে বেশি আদান-প্রদান তারাই স্বামী এবং স্ত্রী। এ সম্পর্কের চিরস্থায়ী রূপ দিতে হলে ভাল চরিত্র, পরস্পর সম্মান, নম্র-ভাব, হাসি-কৌতুক এবং অহরহ ঘটে যাওয়া ভুলচুক ক্ষমা সুন্দর দৃষ্টিতে দেখা অবশ্যম্ভাবী। এবং এমন সব কাজ, কথা ও ব্যবহার পরিত্যাগ করা, যা উভয়ের সম্পর্কে চির ধরে কিংবা মনোমালিন্যের সৃষ্টি হয়। আল্লাহ বলেন:
তাদের সাথে তোমরা সদ্ভাবে আচরণ কর। [নিসা : ১৮]
রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেনঃ ‘তোমাদের মাঝে যে নিজের পরিবারের কাছে ভাল, সেই সর্বোত্তম। আমি আমার পরিবারের কাছে ভাল।’ [ইবনে মাজাহ : ১৯৬৭]
পরস্পর সদ্ভাবে জীবন যাপন একটি ব্যাপক শব্দ। এর মাঝে সমস্ত অধিকার বিদ্যমান।

 ২ পরস্পর একে অপরকে উপভোগ করা

এর জন্য আনুষঙ্গিক যাবতীয় প্রস্তুতি ও সকল উপকরণ গ্রহণ করা। যেমন সাজগোজ, সুগন্ধি ব্যবহার এবং পরিষ্কার পরিচ্ছন্নতাসহ দুর্গন্ধ ও ময়লা কাপড় পরিহার ইত্যাদি। স্বামী স্ত্রী প্রত্যেকের এ বিষয়গুলোর প্রতি লক্ষ্য রাখা। অধিকন্তু এগুলো সদ্ভাবে জীবন যাপনেরও অংশ।ইবনে আব্বাস রা. বলেনঃ আমি যেমন আমার জন্য স্ত্রীর সাজগোজ কামনা করি, অনুরূপ তার জন্য আমার নিজের সাজগোজও পছন্দ করি।’
তবে পরস্পর এ অধিকার নিশ্চিত করার জন্য উভয়কেই হারাম সম্পর্ক ও নিষিদ্ধ বস্তু হতে বিরত থাকতে হবে।

 ৩ বৈবাহিক সম্পর্কের গোপনীয়তা রক্ষা করা

সাংসারিক সমস্যা নিয়ে অন্যদের সাথে আলোচনা না করাই শ্রেয়। স্বামী-স্ত্রীর মাঝে উপভোগ্য বিষয়গুলো গোপন করা। রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেনঃ  কিয়ামতের দিন আল্লাহর দরবারে সর্ব-নিকৃষ্ট ব্যক্তি সে, যে নিজের স্ত্রীর সাথে মিলিত হয় এবং যার সাথে তার স্ত্রী মিলিত হয়, অতঃপর সে এর গোপনীয়তা প্রকাশ করে বেড়ায় [মুসলিম : ২৫৯৭]

 ৪ পরস্পর শুভ কামনা করাসত্য ও ধৈর্যের উপদেশ দেয়া

আল্লাহর আনুগত্যের ব্যাপারে একে অপরকে সহযোগিতা করা। স্বামী-স্ত্রী উভয়ে একে অপর থেকে উপদেশ পাওয়ার অধিক হকদার।দাম্পত্য জীবন রক্ষা করা উভয়েরই কর্তব্য।আর এর অন্তরভূক্ত হচ্ছে, পরস্পর নিজ আত্মীয়দের সাথে সদ্ভাব বজায় রাখার ক্ষেত্রে একে অপরকে সহযোগিতা করা ।
সন্তানদের লালন-পালন ও সুশিক্ষার ব্যাপারে উভয়েই সমান, একে অপরের সহযোগী। আল্লাহ তাআলা বলেন: ‘তোমরা সৎকর্ম ও তাকওয়ার ব্যপারে পরস্পরকে সহযোগিতা কর।’ [মায়েদা : ২]

 দ্বিতীয়ত :

স্বামীর প্রতি স্ত্রীর কর্তব্যঃ
সুখকর দাম্পত্য জীবন, সুশৃঙ্খল পরিবার, পরার্থপরতায় ঋদ্ধ ও সমৃদ্ধ স্বামী-স্ত্রীর বন্ধন অটুট রাখার স্বার্থে ইসলাম জীবন সঙ্গিনী স্ত্রীর উপর কতিপয় অধিকার আরোপ করেছে। গুরুত্বপূর্ণ কয়েকটি এখানে প্রদত্ত হল।

 ১. স্বামীর আনুগত্য :

স্বামীর আনুগত্য করা স্ত্রীর কর্তব্য। তবে যে কোন আনুগত্যই নয়, বরং যেসব ক্ষেত্রে আনুগত্যের নিম্ন বর্ণিত তিন শর্ত বিদ্যমান থাকবে।
(ক) ভাল ও সৎ কাজ এবং আল্লাহর বিধান বিরোধী নয় এমন সকল বিষয়ে স্বামীর আনুগত্য করা। সৃষ্টিকর্তা আল্লাহর অবাধ্যতায় কোন সৃষ্টির আনুগত্য বৈধ নয়।
(খ) স্ত্রীর সাধ্য ও সামর্থ্যরে উপযোগী বিষয়ে স্বামীর আনুগত্য করা। কারণ আল্লাহ তাআলা মানুষকে তার সাধ্যের বাইরে অতিরিক্ত দায়িত্বারোপ করেন না।
(গ) যে নির্দেশ কিংবা চাহিদা পূরণে কোন ধরনের ক্ষতির সম্ভাবনা নেই, সে ব্যাপারে স্বামীর আনুগত্য করা।
আনুগত্য আবশ্যক করে পবিত্র কোরআনে আল্লাহ তাআলা বলেনঃ ‘নারীদের উপর পুরুষগণ শ্রেষ্ঠত্ব ও কর্তৃত্বের অধিকারী।’ [বাকারা : ২২৭]
আল্লাহ তাআলা আরো বলেন: ‘পুরুষগণ নারীদের উপর কর্তৃত্বকারী। কারণ আল্লাহ তাআলা-ই তাদের মাঝে তারতম্য ও শ্রেষ্ঠত্বের বিধান রেখেছেন। দ্বিতীয়ত পুরুষরাই ব্যয়-ভার গ্রহণ করে।’ [নিসা : ৩৪]
উপরন্তু এ আনুগত্যের দ্বারা বৈবাহিক জীবন স্থায়িত্ব পায়, পরিবার চলে সঠিক পথে। নবী করিম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম স্বামীর আনুগত্যকে এবাদতের স্বীকৃতি প্রদান করে বলেন—
যে নারী পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ পড়ে, রমজান মাসের রোজা রাখে এবং নিজের লজ্জাস্থান হেফাজত করে ও স্বীয় স্বামীর আনুগত্য করে, সে,নিজের ইচ্ছানুযায়ী জান্নাতের যে কোন দরজা দিয়ে ভেতরে প্রবেশ করবে [আহমাদ : ১৫৭৩]
স্বামীর কর্তব্য, এ সকল অধিকার প্রয়োগের ব্যাপারে আল্লাহর বিধানের অনুসরণ করা। স্ত্রীর মননশীলতা ও পছন্দ-অপছন্দের ভিত্তিতে সত্য-কল্যাণ ও উত্তম চরিত্রের উপদেশ প্রদান করা কিংবা হিতাহিত বিবেচনায় বারণ করা।উপদেশ প্রদান ও বারণ করার ক্ষেত্রে উত্তম আদর্শ ও উন্নত মননশীলতার পরিচয় দেয়া । এতে সানন্দ চিত্তে ও স্বাগ্রহে স্ত্রীর আনগত্য পেয়ে যাবে।

 ২.  স্বামী-আলয়ে অবস্থান:

নেহায়েত প্রয়োজন ব্যতীত ও অনুমতি ছাড়া স্বামীর বাড়ি থেকে বের হওয়া অনুচিত।মহান আল্লাহ তাআলা পৃথিবীর সর্বাপেক্ষা শ্রেষ্ঠ নারীদের ঘরে অবস্থানের নির্দেশ দিয়েছেন। তিনি তাঁর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর স্ত্রীদের সম্বোধন করে বলেন—সকল নারীই এর অন্তর্ভুক্তঃ  ‘তোমরা স্ব স্ব গৃহে অবস্থান কর, প্রাচীন যুগের সৌন্দর্য প্রদর্শনের মত নিজেদের কে প্রদর্শন করে বেড়িও না। ’ [আহজাব : ৩৩]
স্ত্রীর উপকার নিহিত এবং যেখানে তারও কোন ক্ষতি নেই, এ ধরনের কাজে স্বামীর বাধা সৃষ্টি না করা। যেমন পর্দার সাথে, সুগন্ধি ও সৌন্দর্য প্রদর্শন পরিহার করে বাইরে কোথাও যেতে চাইলে বারণ না করা। ইবনে উমর রা. বর্ণনা করেন, রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন:  আল্লাহর বান্দিদেরকে তোমরা আল্লাহর ঘরে যেতে বাধা দিয়ো না [বুখারী: ৮৪৯ ]
আব্দুল্লাহ ইবনে মাসঊদ রা: এর স্ত্রী যয়নব সাকাফী রা. বলেন, রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম আমাদেরকে বলতেন:  তোমাদের কেউ মসজিদে যাওয়ার ইচ্ছে করলে সুগন্ধি ব্যবহার করবে না [মুসলিম : ৬৭৪]

 ৩. নিজের ঘর এবং সন্তানদের প্রতি খেয়াল রাখা


স্বামীর সম্পদ সংরক্ষণ করা। স্বামীর সাধ্যের অতীত এমন কোন আবদার কিংবা প্রয়োজন পেশ না করা। রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেনঃ  স্ত্রী স্বীয় স্বামীর ঘরের জিম্মাদার। এ জিম্মাদারির ব্যাপারে তাকে জবাবদেহিতার সম্মুখীন করা হবে [বুখারী: ২৫৪৬]
৪. নিজের সতীত্ব ও সম্মান রক্ষা করা
পূর্বের কোন এক আলোচনায় আমরা রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর একটি হাদিস এ মর্মে উল্লেখ করেছি যে, নিজেকে কখনো পরীক্ষা কিংবা ফেতনার সম্মুখীন না করা।

 ৫স্বামীর অপছন্দনীয় এমন কাউকে তার ঘরে প্রবেশের অনুমতি না দেয়া

হোক না সে নিকট আত্মীয় কিংবা আপনজন। যেমন ভাই-বেরাদার। রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেনঃ তোমাদের অপছন্দনীয় কাউকে বিছানায় জায়গা না দেয়া স্ত্রীদের কর্তব্য [মুসলিম : ২১৩৭]
স্বামীর উপস্থিতিতে তার অনুমতি ব্যতীত নফল রোজা না রাখা। কারণ, রোজা নফল—আনুগত্য ফরজ। রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেনঃ নারীর জন্য স্বামীর উপস্থিতিতে অনুমতি ছাড়া রোজা রাখা বৈধ নয়। অনুরূপ ভাবে অনুমতি ব্যতীত তার ঘরে কাউকে প্রবেশ করতে দেওয়াও বৈধ নয় [বুখারী : ৪৭৬৯]

 তৃতীয়ত : 

স্বামীর উপর স্ত্রীর অধিকার
স্ত্রীর প্রতি স্বামীর কর্তব্য, সুখকর দাম্পত্য জীবন, সুশৃঙ্খল পরিবার, পরার্থপরতায় ঋদ্ধ ও সমৃদ্ধ স্বামী-স্ত্রীর বন্ধন অটুট রাখার স্বার্থে ইসলাম জীবন সঙ্গী স্বামীর উপর কতিপয় অধিকার আরোপ করেছে। গুরুত্বপূর্ণ কয়েকটি এখানে প্রদত্ত হল।

 ১. দেন মোহর


নারীর দেন মোহর পরিশোধ করা ফরজ। এ হক তার নিজের, পিতা-মাতা কিংবা অন্য কারো নয়। আল্লাহ তাআলা বলেনঃ ‘তোমরা প্রফুল্ল চিত্তে স্ত্রীদের মোহরানা দিয়ে দাও।’ [নিসা : ৪]

 ২. ভরন পোষণ

সামর্থ্য ও প্রচলিত প্রথা অনুযায়ী স্ত্রীর ভরন-পোষণ করা স্বামীর কর্তব্য। স্বামীর সাধ্য ও স্ত্রীর মর্তবার ভিত্তিতে এ ভরন-পোষণ কম বেশি হতে পারে।অনুরূপ ভাবে সময় ও স্থান ভেদে এর মাঝে তারতম্য হতে পারে।আল্লাহ তাআলা বলেনঃ "বিত্তশালী স্বীয় বিত্তানুযায়ী ব্যয় করবে। আর যে সীমিত সম্পদের মালিক সে আল্লাহ প্রদত্ত সীমিত সম্পদ হতেই ব্যয় করবে। আল্লাহ যাকে যে পরিমাণ দিয়েছেন, তারচেয়ে’ বেশি ব্যয় করার আদেশ কাউকে প্রদান করেন না।" [তালাক : ৭]

 ৩. স্ত্রীর প্রতি স্নেহশীল ও দয়া-পরবশ থাকা


স্ত্রীর প্রতি রূঢ় আচরণ না করা। তার সহনীয় ভুলচুকে ধৈর্যধারণ করা। স্বামী হিসেবে সকলের জানা উচিত, নারীরা মর্যাদার সম্ভাব্য সবকটি আসনে অধিষ্ঠিত হলেও, পরিপূর্ণ রূপে সংশোধিত হওয়া সম্ভব নয়। রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেন : "তোমরা নারীদের ব্যাপারে কল্যাণকামী। কারণ, তারা পাঁজরের হাড় দ্বারা সৃষ্ট। পাঁজরের উপরের হাড়টি সবচে’ বেশি বাঁকা। (যে হাড় দিয়ে নারীদের সৃষ্টি করা হয়েছে) তুমি একে সোজা করতে চাইলে, ভেঙে ফেলবে। আবার এ অবস্থায় রেখে দিলে, বাঁকা হয়েই থাকবে। তাই তোমরা তাদের কল্যাণকামী হও, এবং তাদের ব্যাপারে সৎ-উপদেশ গ্রহণ কর।" [বুখারি]

৪. স্ত্রীর ব্যাপারে আত্মমর্যাদাশীল হওয়া


হাতে ধরে ধরে তাদেরকে হেফাজত ও সুপথে পরিচালিত করা। কারণ, তারা সৃষ্টিগতভাবে দুর্বল, স্বামীর যে কোন উদাসীনতায় নিজেরাও ক্ষতিগ্রস্ত হবে, অপরকে ক্ষতিগ্রস্ত করবে।
এ কারণে রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম নারীর ফেতনা হতে খুব যতœ সহকারে সতর্ক করেছেন। তিনি বলেনঃ  আমার অবর্তমানে পুরুষদের জন্য নারীদের চে’ বেশি ক্ষতিকর কোন ফেতনা রেখে আসিনি’ [বুখারী:৪৭০৬]
নারীদের ব্যাপারে আত্মম্ভরিতার প্রতি লক্ষ্য করে রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেনঃ  তোমরা সাআদ এর আবেগ ও আত্মসম্মানবোধ দেখে আশ্চর্যান্বিত হচ্ছ। আমি তার চে’ বেশি আত্মসম্মানবোধ করি,আবার আল্লাহ আমারচে’ বেশি অহমিকা সম্পন্ন [মুসলিম : ২৭৫৫]
শায়খুল ইসলাম ইবনে তাইমিয়া রহ. বলেন, যার মাঝে আত্মমর্যাদাবোধ নেই সে দাইয়ূছ (অসতী নারীর স্বামীযে নিজ স্ত্রীর অপকর্ম সহ্য করে)। হাদিসে এসেছেঃ দাইয়ূছ জান্নাতে প্রবেশ করবে না [দারামি : ৩৩৯৭]
মানুষের সবচেয়ে বেশি আত্মমর্যাদার বিষয় নিজের পরিবার। এর ভেতর অগ্রাধিকার প্রাপ্ত স্বীয় স্ত্রী। অতঃপর অন্যান্য আত্মীয় স্বজন এবং অধীনস্থগণ।
পরিশেষে নির্ঘাত বাস্তবতার কথা স্বীকার করে বলতে হয়, কোন পরিবার সমস্যাহীন কিংবা মতবিরোধ মুক্ত নয়। এটাই মানুষের প্রকৃতি ও মজ্জাগত স্বভাব। এর বিপরীতে কেউ স্বীয় পরিবারকে নিষ্কণ্টক অথবা ঝামেলা মুক্ত কিংবা ফ্রেশ মনে করলে, ভুল করবে। কারণ, এ ধরাতে সর্বোত্তম পরিবার কিংবা সুখী ফ্যামিলির একমাত্র উদাহরণ আমাদের রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর পরিবার ও ফ্যামিলি। সেখানেও আমরা মানবিক দোষ-ত্রুটির চিত্র দেখতে পাই, অন্য পরিবারের পবিত্রতা কোথায় ?
জ্ঞানী-গুণীজনের স্বভাব ভেবে-চিন্তে কাজ করা, ত্বরা প্রবণতা পরিহার করা, ক্রোধ ও প্রবৃত্তিকে সংযমশীলতার সাথে মোকাবিলা করা।কারণ, তারা জানে যে কোন মুহূর্তে ক্রোধ ও শয়তানের প্ররোচনায় আত্মমর্যাদার ছদ্মাবরণে মারাত্মক ও কঠিন গুনাহ হয়ে যেতে পারে।যার পরিণতি অনুসূচনা বৈকি? আবার এমনও নয় যে, আল্লাহ তাআলা সমস্ত কল্যাণ ও সুপথ বান্দার নখদর্পে করে দিয়েছেন। তবে অবশ্যই তাকে মেধা, কৌশল ও বুদ্ধি প্রয়োগ করতে হবে।
 সমাপ্ত
http://www.quraneralo.com  ৩০.০১.১৩ বুধবার

অদ্ভুত যত বিবাহ বিচ্ছেদ



অদ্ভুত যত বিবাহ বিচ্ছেদপিডিএফপ্রিন্টইমেইল
অদ্ভুত যত বিবাহ বিচ্ছেদ

বিভিন্ন কারণে-অকারণে পৃথিবীতে অসংখ্য বিবাহ বিচ্ছেদ বা ডিভোর্সের ঘটনা ঘটছে। বিশ্বজুড়ে বিবাহ বিচ্ছেদের অদ্ভুত কারণ রয়েছে। কিছু বিবাহ বিচ্ছেদের পেছনের ব্যতিক্রমী কারণ রীতিমতো পিলে চমকে দেওয়ার মতো। বিয়ের ১৭ বছর পর স্বামীর ডাকনাম জেনে যেমন বিবাহ বিচ্ছেদের ঘটনা রয়েছে, তেমনি বাড়ির আঙ্গিনায় পোষা ময়না পাখির কথা শুনে স্ত্রী ঘটিয়েছেন বিবাহ বিচ্ছেদ। আবার বিবাহ বিচ্ছেদের ঘটনা ঘটেছে বাজি ধরে কার্ড খেলায় হেরে যাওয়ার পর! ব্যতিক্রমী তেমন কিছু বিবাহ বিচ্ছেদের কথা জানাচ্ছেন- তানভীর আহমেদ



১. ময়না পাখির কথায় বিবাহ বিচ্ছেদ!

চীনে এই অদ্ভুত ঘটনাটি ঘটেছে। বাড়ির আঙ্গিনায় পোষা এক ময়না পাখির কথা শুনে স্ত্রী তার স্বামীকে ডিভোর্স দেন। পোষা ময়না পাখিটি স্বামী-স্ত্রী পোষেন, পাখিটিকে বিভিন্ন কথা বলতে শেখান। একবার ছুটিতে স্ত্রী গিয়েছিলেন বেড়াতে। বেড়ানো শেষ করে বাড়ি ফিরে শুনতে পান তার ময়না পাখিটি তিনটি শব্দ ও বাক্য আওড়াচ্ছে। 'ধৈর্য ধর', 'ডিভোর্স' এবং 'আমি তোমাকে ভালোবাসি'। ময়না পাখির কোনো দোষ নেই। পরে জানা যায়, বারান্দায় দাঁড়িয়ে মহিলাটির স্বামী যখন মোবাইলে কারও সঙ্গে কথা বলছিলেন তখন এ কথাগুলো শিখে পোষা ময়না পাখিটি। আর সেগুলোই দিনভর আবৃত্তি করে চলেছে পাখিটি। ব্যাস, এই পাখির কথার সূত্রপাত ধরেই মহিলা তার স্বামীকে ডিভোর্সের সিদ্ধান্ত নেন।

২. স্ত্রী অতি লাজুক, তাই বিবাহ বিচ্ছেদ!

লাজুক মেয়ে সব স্বামীর কাছেই স্ত্রী হিসেবে পছন্দনীয় কিন্তু বিয়ের পরও স্বামীর কাছে অতিরিক্ত লজ্জা পাওয়া এক বিবাহ বিচ্ছেদের জন্য যথেষ্ট হয়েছে। বিয়ের পর থেকেই স্ত্রীর এই অতিরিক্ত লজ্জা পাওয়ার বিষয়টি স্বামীর চোখে ধরা পড়লেও তিনি এটাকে স্বাভাবিক বলেই মেনে নেন কিন্তু বিয়ের এক বছরের মধ্যেও তিনি তার স্ত্রীকে নিয়ে ঘর ছেড়ে কোথাও বেড়াতে যেতে পারেননি। কারণ তার সঙ্গে চলতে, ফিরতে, কথা বলতে তার স্ত্রী লজ্জা পান! ফলে বিবাহ বিচ্ছেদ ঘটান তার স্বামী।

৩. হানিমুনে শাশুড়ি সঙ্গী হওয়াতে বিবাহ বিচ্ছেদ!

ইতালিতে এই ব্যতিক্রমী বিবাহ বিচ্ছেদের ঘটনাটি ঘটে। বিয়ের পর স্বামী তার স্ত্রীকে নিয়ে দেশের বাইরে হানিমুনে যাওয়ার বন্দোবস্ত করে এয়ারপোর্টে হাজির হয়ে দেখেন সেখানে তার স্ত্রীর সঙ্গে শাশুড়িও এসে হাজির এবং তিনি তাদের হানিমুন সফরের সঙ্গী হতে চান। তারা সবাই বেড়াতে যান এবং তিন সপ্তাহ বেড়িয়ে আসেন। নিজ বাড়ি ফিরে স্বামী সিদ্ধান্ত নেন বিবাহ বিচ্ছেদের। কারণ তার শাশুড়ি এই রোমান্টিক সফরকে নষ্ট করেছে বলেই তার কষ্ট। শেষে বিবাহ বিচ্ছেদ ঘটে এই জুটির।

৪. ডাকনাম জেনে বিবাহ বিচ্ছেদ!

এই আরব মহিলা ১৭ বছর সংসার করার পর তার স্বামীর সঙ্গে বিবাহ বিচ্ছেদ ঘটালেন। কারণ তার স্বামীর ডাকনাম! ঘটনার সূত্রপাত, একদিন তার স্বামী মোবাইল ফোন ঘরে ফেলে কাজে গেলেন। হঠাৎ তার স্বামীর মোবাইলে ফোন এলে স্ত্রী ফোনটি হাতে তুলে দেখেন সেখানে লেখা 'গুয়ানতানামো'! স্ত্রী রীতিমতো একটা ধাক্কা খেলেন। পরে তার স্বামী বাসায় এলে এ নিয়ে কলহ বেধে যায়। শেষমেশ তার স্বামী জানান, এটা তার ডাকনাম, স্ত্রী নামটি অপছন্দ করে বলেই সে নামটি এতকাল গোপন রেখেছিল। সত্য জানার পর আর দেরি নয়, মহিলা তার স্বামীকে ত্যাগ করেন।

৫. কেক খেতে পীড়াপীড়ি করায় বিবাহ বিচ্ছেদ!

এটি চীনের একটি ঘটনা। এক লোকের স্ত্রী নিজ হাতে কেক বানাতেন আর তার স্বামীকে প্রতিবার নাশতা ও ভারী খাবারের পর একটু কেক খেতে জোর করতেন। 'কেক খাও' কথাটি শুনতে শুনতে স্বামীর অবস্থা একেবারে শোচনীয়। বার বার কেক খেতে দেওয়ায় এবং কেক খেতে জোর করায় স্বামী বিরক্ত হলেও স্ত্রীকে এ রূপ আচরণ থেকে বিরত রাখতে পারছিলেন না। এক সময় স্বামীর মনে হলো তার স্ত্রী স্বাভাবিক নন। উপায় না পেয়ে লোকটি তার স্ত্রীর সঙ্গে বিবাহ বিচ্ছেদ ঘটান!

৮. বেশি পরিচ্ছন্নতার কারণে বিবাহ বিচ্ছেদ!

২০০৯ সালের ঘটনা, এক মহিলা তার স্বামীর কাছে ডিভোর্স চাইল। কারণ সে তার স্বামীকে ঘরদোর পরিষ্কার করছে এমনটি দেখতে চায় না! মূলত তার স্বামী ঘরদোর পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন করতে এতটাই মনোনিবেশ করে ফেলেছেন যে, সেটা রীতিমতো অসুস্থতার লক্ষণ। বাড়ির আঙ্গিনা, রান্নাঘর ইত্যাদি পরিষ্কার করার পাশাপাশি তার স্বামী ঘরের প্রতিটি কাজে হাত লাগাতেন শুরুতে। বহুবার এ বিষয়ে এতটা মনোনিবেশ না করতে স্ত্রীর অনুরোধ ছিল। কিন্তু সেদিন একটি দেয়ালের ময়লা পরিষ্কার করতে গিয়ে একটি দেয়ালই তার স্বামী ধসিয়ে দিল। কারণ দেয়ালটা নাকি বেশি ময়লা ছিল, তারপর আর তার সঙ্গে স্বাভাবিক জীবনযাপন সম্ভব নয় বলে জানান তার স্ত্রী। ফলশ্রুতিতে ঘটে বিবাহ বিচ্ছেদ।

৬. বাজিতে হেরে যাওয়ায় বিবাহ বিচ্ছেদ!

রাশিয়ার বাসিন্দা এন্ড্রেই কার্পোভ টাকা-পয়সা সব খুইয়ে জিদের বসে তার স্ত্রীকে বাজি ধরে বসেন তাস খেলায়! দুর্ভাগ্যবশত তিনি তাস খেলায় হেরে যান। স্ত্রীকে এভাবে না হারালেও এ ঘটনা তার স্ত্রী টাতিয়ানার কানে গেলে স্ত্রী এক মুহূর্ত দেরি না করে তার জুয়াড়ি স্বামীকে ডিভোর্স দিয়ে বসেন। বিবাহ বিচ্ছেদ ঘটানোর পর তার স্ত্রী তাকে শাসিয়ে গেছে, সে নিশ্চয়ই ওই লোকের কাছে বিয়ে বসতে যাচ্ছে, যার কাছে তার স্বামী বাজি হেরেছে!

৭. মুখ দেখতে চাওয়ায় বিবাহ বিচ্ছেদ!

আরব দেশের ঘটনা। বিয়ের ক'দিন পর স্বামী তার স্ত্রীর মুখ দেখতে চাইলে স্ত্রী দ্রুত ঘর ছেড়ে বাইরে চলে গেল। পরে স্বামী জানতে পারেন, এটি তাদের পারিবারিক ঐতিহ্য, তাদের বাড়ির মেয়েরা কাউকে কখনো মুখ দেখায় না, এমনকি স্বামীর সামনেও তারা মুখ ঢেকে চলে! আর কখনো মুখ দেখতে চাইবে না এ শর্তে অনেক বুঝিয়ে স্ত্রীকে স্বামী ঘরে ফিরিয়ে আনেন। এরপর অনেক দিন স্ত্রীকে এরূপ প্রাচীনপন্থা থেকে সরে আসার জন্য পীড়াপীড়ি করতে থাকেন। স্ত্রীর বক্তব্য হলো, ভালোবাসা থেকে বিয়ে, সংসার- এখানে মুখাবয়ব দেখানোর কী প্রয়োজন? স্ত্রী মুখ দেখতে চাওয়ার কারণে অবশেষে তাদের বিবাহ বিচ্ছেদ ঘটে।
 http://www.dailynobojug.com/index.php?option=com_content&view=article&id=300:2012-06-07-11-25-44&catid=42:2012-05-29-10-42-49&Itemid=60

নিহতদের অধিকাংশই ছাত্র

নিহতদের অধিকাংশই ছাত্র


ব্রাজিলে নাইট ক্লাবে অগি্নকাণ্ড
undefined
সমকাল ডেস্ক
ব্রাজিলের দক্ষিণাঞ্চলের সান্তা মারিয়া শহরে নাইট ক্লাবে অগি্নকাণ্ডে প্রাণহানির ঘটনায় তিন দিনের জাতীয় শোক ঘোষণা করেছে দেশটির সরকার। এ ছাড়া দুর্ঘটনাস্থল সান্তা মারিয়ায় এক মাসের শোক ঘোষণা করেছে স্থানীয় কর্তৃপক্ষ। নিহতদের মধ্যে বেশিরভাগই শিক্ষার্থী। গতকাল সোমবার থেকে নিহতদের শেষকৃত্য শুরু হয়েছে। নাইট ক্লাবে অগি্নকাণ্ডের ঘটনায় নিহতের সংখ্যা ২৪৫ জনে দাঁড়িয়েছে, যাদের অধিকাংশই ছাত্র। ৫০ বছরের মধ্যে এটি ব্রাজিলের সবচেয়ে ভয়াবহ অগি্নদুর্ঘটনা। খবর :এএফপি, বিবিসি অনলাইন।
দুর্ঘটনার সংবাদ পেয়ে চিলির সফর সংক্ষিপ্ত করে দেশে ফিরেছেন দেশটির প্রেসিডেন্ট দিলমা রৌসেফ। সরকারের মন্ত্রীদের নিয়ে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন তিনি। এ সময় হাসপাতালে আহত চিকিৎসাধীন ব্যক্তিদের সান্ত্বনা দিয়ে তিনি বলেন, 'এটা আমাদের সবার জন্যই বেদনাদায়ক ঘটনা।' শোক দিবস ঘোষণা করায় সোমবার অনুষ্ঠেয় আসন্ন 'ব্রাজিল বিশ্বকাপ-২০১৪'-এর '৫০০ দিন গণনা' অনুষ্ঠানও বাতিল করেছে সরকার। কর্তৃপক্ষ নিহতদের পরিচয় প্রকাশ করেছে। গতকাল সকালে তাদের শেষকৃত্য সম্পন্ন হয়। রোববার সান্তা মারিয়ার নাইট ক্লাবের একটি পার্টিতে আতশবাজি থেকে আগুনের সূত্রপাত ঘটে। তারপর পুরো নাইট ক্লাবে আগুন ছড়িয়ে পড়ে। উদ্ধারকারী দল দ্রুত ঘটনাস্থলে পেঁৗছলেও এরই মধ্যে ঘটে যায় দেশটির গত পাঁচ দশকের মধ্যে সবচেয়ে বেশি প্রাণহানির ঘটনা। নিহতদের বেশির ভাগই শিক্ষার্থী ছিল, যাদের বয়স ১৬ থেকে ২০-এর মধ্যে।
সান্তা মারিয়ার পুলিশ জানিয়েছে, প্রথমে আগুন লাগার পর মানুষ বের হতে চাইলে ক্লাবের প্রহরীরা তাদের সম্পূর্ণ বিল পরিশোধের জন্য আটকে রেখেছিল, যার ফলে প্রাণহানির সংখ্যা বেড়েছে।

এদিকে দুর্ঘটনায় যাদের দেহ গুরুতরভাবে পুড়ে গেছে, তাদের ত্বক প্রতিস্থাপনের জন্য কৃত্রিম ত্বক পাঠানোর ঘোষণা দিয়েছে আর্জেন্টিনা।

মঙ্গলবার | ২৯ জানুয়ারি ২০১৩ |

সোমবার, ২৮ জানুয়ারি, ২০১৩

নতুন ছয়টি ধূমকেতু

নতুন ছয়টি ধূমকেতু


সমকাল ডেস্ক
সৌরজগতের বাইরে অনেক দূরে অবস্থিত নক্ষত্রকে কেন্দ্র করে ঘুরছে এমন আরও ৬টি ধূমকেতুর সন্ধান পেয়েছেন জ্যোতির্বিজ্ঞানীরা। এ থেকে ধারণা করা হচ্ছে, পৃথিবীর ছায়াপথে অসংখ্য ধূমকেতু রয়েছে। বিজ্ঞানীদের ধারণা, এগুলো নিয়ে গবেষণায় গ্রহের সৃষ্টি এমনকি প্রাণ এবং পানির উৎস সম্পর্কে তথ্য পাওয়া যাবে। এ ধরনের ধূমকেতু বা এক্সোকমেটের প্রথম সন্ধান পাওয়া যায় ১৯৮৭ সালে। এরপর আরও তিনটির সন্ধান মেলে। গত সোমবার আমেরিকান অ্যাস্ট্রোনমিক্যাল সোসাইটির বৈঠকে জ্যোতির্বিদ ব্যারি ওয়েলস নতুন ছয়টি ধূমকেতুর বর্ণনা দেন।
আমাদের পরিচিত ধূমকেতুগুলোর মধ্যে হ্যালি ধূমকেতু ৭৫ বছর পরপর পৃথিবীর কাছ দিয়ে ছুটে যায়। দূরবর্তী নক্ষত্রকে কেন্দ্র করে এটি দীর্ঘ পথে ঘুরছে। ঘুরতে ঘুরতে এতে যুক্ত হয় গ্যাসসহ মহাশূন্যে ভাসমান বিভিন্ন উপাদান। আবার নক্ষত্রের কাছাকাছি গেলে মহাকর্ষ শক্তির প্রভাবের কারণে নানা উপাদান হারাতে হয় এই ধূমকেতুকে। ধারণা করা হয়, ধূমকেতু সৌরজগৎ গঠনে গুরুত্বপূর্ণ
ভূমিকা রেখেছে। এ নিয়ে দুই ধরনের ব্যাখ্যা রয়েছে। একটি হচ্ছে সৌরজগৎ সৃষ্টির প্রাথমিক পর্যায়ে গ্রহগুলোতে বরফ পেঁৗছে দিয়েছে ধূমকেতু। সেই বরফ গলে হয়েছে সাগর-মহাসাগর। আরেকটি মত হচ্ছে, ধূমকেতুতে থাকা জৈব উপাদান থেকে গ্রহে প্রাণের সৃষ্টি হয়ে থাকতে পারে। আমাদের সৌরজগতের বাইরে অন্যান্য জগতে অসংখ্য ধূমকেতু থাকলে প্রাণের অস্তিত্বও থাকতে পারে। বিবিসি, জিনিউজ অনলাইন। 
১০ জানুয়ারি ২০১৩

ব্যর্থতা থেকেই শিখতে হবে


সফলদের স্বপ্নগাথা

ব্যর্থতা থেকেই শিখতে হবে

ক্যারল অ্যান বার্টজ | তারিখ: ২৭-০১-২০১৩

ক্যারল অ্যান বার্টজ
উপস্থিত শিক্ষার্থীরা সবাই বিরক্ত নাকি? তোমাদের সবাইকে বেশ মনমরা লাগছে। আমাকে হ্যালো বলো! সবাইকে আমার পক্ষ থেকে আন্তরিক শুভেচ্ছা। তোমাদের মা-বাবাকেও আমার তরফ থেকে বিশাল শুভেচ্ছা পৌঁছে দিয়ো।
যখন তোমরা এখান থেকে চলে যাবে, তোমাদের সামনে থাকবে নতুন পৃথিবী। তোমাদের একটা পরামর্শ দিতে চাই। যখনই কোনো কাজ করার সুযোগ পাবে তা লুফে নেবে। চেষ্টা করবে তোমার কাজের ক্ষেত্রে সব সময় সামনের দিকে থাকতে। একটি কোম্পানির কথা চিন্তা করো। আমি যে কোম্পানি থেকে এসেছি, সেখানে সব সময় সামনের দিকে কারা থাকে জানো? তারাই থাকে, যাদের ভবিষ্যতে আরও বড় হওয়ার সুযোগ থাকে। যারা অন্যদের জানাতে পারে, তাদের মধ্যে কিছু আছে, তারাই সামনের দিকে বসে। আমি তোমাদের সব সময় পরামর্শ দেব সামনের দিকে থাকতে। অনেকের সিজিপিএ কম-বেশি হতে পারে; কিন্তু সতর্ক থাকবে সেটা যেন কখনোই তোমার লক্ষ্যকে বিচ্যুত না করে। আমার পরিশ্রমের বিপরীতে আমি তোমাদের সতর্কও করে দিতে চাই। তোমাদের আমি আজ নতুন কাজের পরামর্শ দিচ্ছি কিন্তু আমি এখন নিজেই ষাটোর্ধ্ব কর্মপদশূন্য নারী। সম্প্রতি আমাকে চাকরি থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে, আমি ছিলাম একটি বড় প্রতিষ্ঠানের প্রধান নির্বাহী। মাঝেমধ্যে আমি তিক্ত আচরণ করি সবার সঙ্গে। আমার তিক্ত কথাবার্তায় তোমাদের জন্য ভবিষ্যতে সতর্ক হওয়ার গল্প থাকবে।

নিঃশ্বাস পরীক্ষায় যক্ষ্মা নির্ণয়

নিঃশ্বাস পরীক্ষায় যক্ষ্মা নির্ণয়

সমকাল ডেস্ক
ফুসফুসের সংক্রমণ বা যক্ষ্মার মতো রোগ নির্ণয়ে আর সপ্তাহ পার নয়। মাত্র কয়েক মিনিটে এবং সামান্য শ্বাস-প্রশ্বাস পরীক্ষার মাধ্যমেই তা সম্ভব। স্বাস্থ্য বিজ্ঞানীরা সম্প্রতি ইঁদুরের ওপর এক গবেষণা শেষে এ কথা জানিয়েছেন। খবর ডেইলি মেইলের। যুক্তরাষ্ট্রের ইউনিভার্সিটি অব ভারমন্টের চিকিৎসা বিজ্ঞানীরা ইঁদুরের নিঃশ্বাস পরীক্ষা করে বিভিন্ন ধরনের ব্যাকটেরিয়ার 'ফিঙ্গার প্রিন্ট' চিহ্নিত করেন। জার্নাল অব ব্রিদ রিসার্চে
প্রকাশিত গবেষণা-নিবন্ধে বলা হয়, এভাবে ব্যাকটেরিয়ার ধরন চিহ্নিত করে সহজেই অ্যান্টিবায়োটিক দেওয়া যায়।
গবেষক দলের অন্যতম জেন হিল বলেন, ফুসফুসে ব্যাকটেরিয়ার সংক্রমণ শনাক্ত করার বর্তমান পদ্ধতিতে নমুনা সংগ্রহ করে তা গবেষণাগারে ব্যাকটেরিয়ায় পরিণত করা হয়। এসব ব্যাকটেরিয়ার জৈব-রাসায়নিক পরীক্ষা করে তা শ্রেণীভুক্ত করা হয়। তারপর পরীক্ষা করে দেখা হয়, এসব ব্যাকটেরিয়া অ্যান্টিবায়োটিকের সঙ্গে কী ধরনের প্রতিক্রিয়া করে।
জেন হিল বলেন, এভাবে ব্যাকটেরিয়ার ধরন দেখে অ্যান্টিবায়োটিক নির্ণয় করতে কয়েক সপ্তাহও পার হয়ে যায়। তবে শ্বাস-প্রশ্বাস পরীক্ষার পর অ্যান্টিবায়োটিক নির্ণয় মাত্র কয়েক মিনিটের ব্যাপার।
যদিও জেন হিল বলেন, নিঃশ্বাস পরীক্ষার মাধ্যমে ফুসফুসের সংক্রমণ খুব সহজে শনাক্ত করা গেলেও ব্যাকটেরিয়ার ফিঙ্গার প্রিন্ট পাওয়া অনেক সময় দুষ্কর হতে পারে। গবেষকরা বিষয়টি কাটিয়ে ওঠার জন্য আরও পরীক্ষা-নিরীক্ষা চালাচ্ছেন। চিকিৎসাবিজ্ঞানীরা এরই মধ্যে ক্যান্সার ও অ্যাজমা নির্ণয়ে নিঃশ্বাস পরীক্ষা পদ্ধতি গ্রহণ করে সফল হয়েছেন। ১৩ জানুয়ারি ২০১৩ |

আত্মহত্যা ঠেকাতে

আত্মহত্যা ঠেকাতে


undefined
সমকাল ডেস্ক
আত্মহত্যা ঠেকাতে আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহার করছে দক্ষিণ কোরীয় কর্তৃপক্ষ। রাজধানী সিউলে হ্যান নদীর ওপর দুটি সেতুতে বসানো হয়েছে ক্লোজ সার্কিট ক্যামেরা। কেউ নদীতে লাফিয়ে পড়ে আত্মহত্যার প্রস্তুতি নিলে অ্যালার্ম বাজবে। তিন মিনিটের মধ্যে সেখানে পেঁৗছে যাবেন জরুরি বিভাগের কর্মীরা। গত বছর হ্যান নদীতে লাফিয়ে পড়ে আত্মহত্যা করেছেন ১৯৬ জন। তাদের মধ্যে ৯০ শতাংশই বেছে নিয়েছেন ম্যাপো

সেতুকে। টিভি ক্যামেরা বসানো দুটি সেতুর মধ্যে এই সেতু অন্যতম। কর্তৃপক্ষ বলেছে, এ ব্যবস্থায় কাজ হচ্ছে এমন প্রমাণ পেলে আগামী মার্চের পর অন্যান্য সেতুতেও সিসিটিভি বসানো হবে।
আত্মহত্যা নিরুৎসাহিত করতে ম্যাপো সেতুতে এর আগেও নেওয়া হয়েছে নানা ব্যবস্থা। একটি সাইনবোর্ডে লেখা হয়েছে 'আপনার জীবনে সেরা সময়টা এখনও আসেনি।' সেতুর মাঝামাঝিতে বসানো হয়েছে মূর্তি। বয়স্ক এক ব্যক্তি অপেক্ষাকৃত হতাশাগ্রস্ত এক তরুণের গালে ধরে আদর করছেন আর তার অন্য হাত তরুণের কাঁধে। বয়স্করা তরুণদের পথ দেখাতে এমন ভাব ফুটিয়ে তোলা কিংবা জীবনের ব্যাপারে উৎসাহী করে তুলতে বসানো বিভিন্ন সাইনবোর্ডে কাজ হয়েছে খুবই কম। ম্যাপো সেতুতে আত্মহত্যার হার বাড়ছেই। ২০০৩ সালে এই সেতু থেকে লাফিয়ে আত্মহত্যা করেন ৫৭ জন। শিক্ষার ব্যাপারে চাপ এবং পছন্দমতো কাজ না পাওয়া ইত্যাদি নানা কারণে আত্মহত্যার প্রবণতা বাড়ছে। অর্থনীতিতে দ্রুত উন্নতি ঘটানো দক্ষিণ কোরিয়ায় জীবনযাত্রার মান অনেক বেড়েছে। সেই সঙ্গে দ্রুত ভেঙেছে পুরনো সমাজ ব্যবস্থা। এর সঙ্গে খাপ খাওয়ানো অনেকের পক্ষেই কঠিন হয়ে পড়েছে। অর্গানাইজেশন অব ইকোনমিক কো-অপারেশন অ্যান্ড ডেভেলপমেন্টের সদস্য দেশগুলোর মধ্যে দক্ষিণ কোরিয়ায় আত্মহত্যার হার সবচেয়ে বেশি। ২০১০ সালে দেশটিতে গড়ে এক লাখ লোকের মধ্যে ৩৩ দশমিক ৫ জন আত্মহত্যা করেছেন। হাঙ্গেরিতে প্রতি লাখে ৩৩ দশমিক ৩ আর জাপানে ২১ দশমিক ২ জন আত্মহত্যা করেছেন। দক্ষিণ কোরিয়ায় গড়ে প্রতিদিন আত্মহত্যা করেন ৫০ জন। ২০০০ সালে গড়ে প্রতি লাখে আত্মহত্যা করেছেন ১৩ দশমিক ৬ জন। ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস অনলাইন।
১২ জানুয়ারি ২০১৩ 

অকালমৃত্যুর ঝুঁকি কমায় বিয়ে

অকালমৃত্যুর ঝুঁকি কমায় বিয়ে


সমকাল ডেস্ক
বিয়ের বয়স হয়েছে কিংবা পেরিয়ে যাচ্ছে, তারপরও বিয়ে করছেন না! টানতে চাচ্ছেন না ঘরসংসারের ঘানি। তাহলে কিন্তু সর্বনাশ! অকালমৃত্যুর থাবা ঠিক আপনার মাথার ওপর। নতুন এক গবেষণায় দেখা গেছে, স্থায়ী জীবনসঙ্গী গ্রহণ বা বিয়ে না করা অকালমৃত্যুর ঝুঁকি অনেকগুণ বাড়িয়ে দেয়। অর্থাৎ বিয়ে অকালমৃত্যুর ঝুঁকি কমায়। খবর দি ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেসের। যুক্তরাষ্ট্রের ডিউক ইউনিভার্সিটি মেডিকেল সেন্টারের

চিকিৎসক ইলেন সিজেলার ও তার সহকর্মীরা মধ্যবয়সে মৃত্যু অর্থাৎ অকালমৃত্যুর ক্ষেত্রে বিয়ের ইতিহাস বা বিয়ের সময়সীমা কতটা প্রভাব ফেলে তা নিয়ে গবেষণা করেন। একই সঙ্গে তারা অকালমৃত্যুর ক্ষেত্রে বিয়ে-পূর্ব ব্যক্তিত্বের ভূমিকা এবং স্বাস্থ্য পরিচর্যার পরিমাণ খতিয়ে দেখেন।
গবেষকরা এ কাজে ইউনিভার্সিটি অব নর্থ ক্যারোলিনা অ্যালামনাই হার্ট স্টাডিতে অংশ নেওয়া ১৯৪০ সালে জন্মগ্রহণকারী ৪ হাজার ৮০২ নারী-পুরুষের স্বাস্থ্যতথ্য ব্যাখ্যা-বিশ্লেষণ করে দেখেন।
গবেষকরা মধ্যবয়সে বিবাহিত এবং অবিবাহিত পরিস্থিতিতে ব্যক্তিত্বের নিয়ন্ত্রণ, আর্থসামাজিক অবস্থা, স্বাস্থ্য পরিচর্যাসহ কয়েকটি ক্ষেত্রে স্থিতিশীলতা ও পরিবর্তন বিশেষভাবে খতিয়ে দেখেন।
অ্যানাল অব বিহেভিয়োরাল মেডিসিন জার্নালে প্রকাশিত গবেষণাপত্রে বলা হয়, গবেষকরা দেখতে পান, মধ্যবয়সে জীবনসঙ্গী থাকাটা অকালমৃত্যু অনেকাংশে রোধ করে দেয়। যারা একেবারেই বিয়ে করেননি তাদের অকালমৃত্যুর ঝুঁকি, বিয়ে করা নারী-পুরুষের চেয়ে দ্বিগুণ বেশি। একা থাকা কিংবা সঙ্গী হারিয়ে আবার কাউকে গ্রহণ না করাও মধ্যবয়সে মৃত্যুঝুঁকি বাড়িয়ে দেয়। এ ক্ষেত্রে মৃত্যু না হলেও বৃদ্ধ বয়স পর্যন্ত টিকে থাকার ক্ষেত্রে জীবনীশক্তি হ্রাস করে দেয়।
| ১২ জানুয়ারি ২০১৩

হার্ট অ্যাটাক রোধে টমেটো পিল



হার্ট অ্যাটাক রোধে টমেটো পিল


সমকাল ডেস্ক
দৈনিক ৬ পাউন্ড বা প্রায় ৩ কেজি টমেটো খাওয়ার কথা কেউ কল্পনাও করতে পারে না। সম্প্রতি গবেষকরা এমন একটি পিল তৈরি করেছেন, যেটি ৬ পাউন্ড টমেটোর পুষ্টিগুণসমৃদ্ধ। গবেষকরা বলছেন, এটি খেলে স্ট্রোক, হার্ট অ্যাটাকসহ অন্যান্য রোগের ঝুঁকি কমবে। লাইকোপেন নামক একটি রাসায়নিক পদার্থ থাকার কারণে টমেটো লাল হয়। কেমব্রিজ বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষকদের মতে, লাইকোপেন রক্তনালিতে রক্ত জমাট বাঁধা
প্রতিরোধ করে। এ ছাড়া এটি রক্তনালিতে চর্বি জমতে বাধা সৃষ্টি করে, যা হৃদরোগের অন্যতম একটি কারণ। এ ছাড়া যাদের ক্যান্সার, বাত ও ডায়াবেটিস রয়েছে তারা টমেটো পিল খেলে উপকৃত হবেন বলে জানিয়েছেন গবেষকরা। পরীক্ষামূলকভাবে ৩৬ হৃদরোগী ও ৩৬ সুস্থ মানুষকে এ টমেটো পিল খাওয়ানো হয়। এতে দেখা যায়, পরীক্ষায় অংশগ্রহণকারী উভয়পক্ষের রক্ত চলাচল বাড়ছে। রক্তনালিগুলো কিছুটা প্রসারিত হচ্ছে। এটি হৃদরোগীদের ওপর কীভাবে কাজ করে
১০ জানুয়ারি ২০১৩ 

স্ট্রোকের দ্রুত চিকিৎসায়...


স্ট্রোকের দ্রুত চিকিৎসায়...



সমকাল ডেস্ক
স্ট্রোকে আক্রান্তদের মস্তিষ্কের কোন অংশ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে, তা নির্ধারণে নতুন একটি দৃষ্টি পরীক্ষা পদ্ধতি (ভিশন টেস্ট) আবিষ্কার করেছেন অস্ট্রেলিয়ার বিজ্ঞানীরা। এ পদ্ধতিতে স্ট্রোকে আক্রান্তদের সুস্থ হয়ে ওঠার সম্ভাবনা কিছুটা বৃদ্ধি পাবে বলে দাবি করেছেন তারা। রোগীদের ১০ মিনিট ধরে একটি ডিভাইস দেখতে দেওয়া হবে। ডিভাইসের বিভিন্ন রঙের প্রতি রোগীর মস্তিষ্ক কী প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করছে, তার মাধ্যমে চিকিৎসকরা
নির্ণয় করতে পারবেন মস্তিষ্কের কোন অংশ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ফলে চিকিৎসকরা প্রয়োজন অনুযায়ী দ্রুত চিকিৎসা দিতে পারবেন। এতে রোগীর সুস্থ হয়ে ওঠার সম্ভাবনা বাড়বে। অস্ট্রেলিয়ান ন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির অধ্যাপক কোরিন কার্লে বলেন, নতুন এই পরীক্ষার মাধ্যমে বিভিন্ন রঙের প্রতি রোগীর চোখ কী প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করছে, তা দেখে চিকিৎসকরা বুঝতে পারবেন, মস্তিষ্কের কোন অংশ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ফলে তারা চিকিৎসা দেওয়ার ক্ষেত্রে দ্রুত সিদ্ধান্ত নিতে পারবেন। তিনি বলেন, স্ট্রোকে আক্রান্তদের মস্তিষ্কের কোন অঞ্চল ক্ষতিগ্র্রস্ত হয়েছে, তা জানা জরুরি। কারণ মস্তিষ্কের 'ওল্ড ব্রেইন' বা 'মিড ব্রেইন' অঞ্চল ক্ষতিগ্রস্ত হলে হৃৎপিণ্ডের স্পন্দন ও রক্তচাপ বেড়ে যায়। আর 'নিউ ব্রেইন' অঞ্চল ক্ষতিগ্রস্ত হলে রোগী স্থায়ী অন্ধ হওয়া বা কথা বলা ও নড়াচড়া করতে অক্ষম হয়ে যেতে পারেন। তাই চিকিৎসকরা যদি দ্রুত বুঝতে পারেন মস্তিষ্কের কোন অংশ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে, তবে দ্রুত ব্যবস্থা নিতে পারবেন। জিনিউজ অনলাইন।
রোববার | ৬ জানুয়ারি ২০১৩ 



রবিবার, ২৭ জানুয়ারি, ২০১৩

বিজ্ঞানের আবিস্কার
তার ছাড়াই গাড়ি চার্জ

undefined
সমকাল ডেস্ক
তেল ফুরিয়ে যাওয়ায় গাড়ি চলতে পারছে না_ এমন কথা রাস্তায় অহরহ শোনা যায়। হালে বৈদ্যুতিক গাড়ি, মোটরসাইকেল ইত্যাদি অনেক বেড়েছে। চার্জ শেষ হয়ে গেলে এসব গাড়ি নিয়েও পড়তে হয় অনেক বিড়ম্বনায়। দীর্ঘ পথযাত্রায় এসব গাড়ি নিয়ে ভাবতে হয় অনেক বেশি। তবে নতুন আশার বাণী শোনাচ্ছে জাপানের বিখ্যাত কোম্পানি টয়োটা। বৈদ্যুতিক সংযোগ ছাড়াই গাড়ির ব্যাটারি চার্জ করার মাঠ পর্যায়ের পরীক্ষা শুরু
করেছে কোম্পানি কর্তৃপক্ষ। বৈদ্যুতিক গাড়ির ব্যাটারি চৌম্বক শক্তি (ম্যাগনেটিক রিজনেটর) ব্যবহারে চার্জ করা হচ্ছে। পার্কিং এলাকায় মাটির নিচে রাখা হবে রিজনেটর। একটি ম্যাটে থাকবে তারহীন চার্জের ডিভাইস। ৫০ সেন্টিমিটার দূর পর্যন্ত থাকবে এর প্রভাব। গাড়ি পার্কিং এলাকায় রাখার পর স্বয়ংক্রিয়ভাবে এসি প্রবাহের মাধ্যমে চার্জ হবে ব্যাটারি। বড় আকারের একটি গাড়িতে চার্জের জন্য লাগবে দেড় ঘণ্টা। তার দিয়ে সংযোগের মাধ্যমে চার্জের জন্যও একই রকম সময় প্রয়োজন হয়। হিন্দুস্তান টাইমস অনলাইন।
শুক্রবার | ৪ জানুয়ারি ২০১৩

গর্ভেই মাতৃভাষা রপ্ত


গর্ভেই মাতৃভাষা রপ্ত



সমকাল ডেস্ক
শিশুরা কোন বয়সে ভাষা শিখতে শুরু করে, তা জানতে গবেষণা চলছে দীর্ঘদিন ধরে। বিজ্ঞানীরা বলে আসছেন, জন্মের পর থেকে শিশু ভাষা সম্পর্কে ধারণা পেতে শুরু করে। কিন্তু নতুন এক গবেষণায় জানা গেছে, মায়ের গর্ভে থেকেই ভাষা শিখতে শুরু করে শিশু। গর্ভে থাকা অবস্থায় শিশু শেষ ১০ সপ্তাহ তার মায়ের কথা শুনতে পায়। জন্মের সময় তার প্রমাণ রাখতে সক্ষম হয় শিশু। জন্মের কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই শিশু
মাতৃভাষা ও বিদেশি ভাষার পার্থক্য বুঝতে পারে। বিজ্ঞানীরা বলছেন, মায়ের গর্ভে ৩০ সপ্তাহ হলেই মস্তিষ্কের উন্নয়ন এবং শ্রবণের ক্ষমতা সৃষ্টি হতে থাকে। ইউনিভার্সিটি অব ওয়াশিংটনের বিজ্ঞানী প্যাট্রিসিয়া কুহল বলেন, শিশুর মস্তিষ্কে প্রথম দাগ কাটেন মা। মায়ের কণ্ঠ সবচেয়ে বেশি শোনা যায় গর্ভে থেকে। ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস অনলাইন।
শনিবার | ৫ জানুয়ারি ২০১৩ | 

বোতলজাত পানি কম নিরাপদ

বিজ্ঞানীরা যা বলেন-৫
বোতলজাত পানি কম নিরাপদ

undefined
সমকাল ডেস্ক
বোতলজাত পানির চেয়ে ট্যাপের পানি বেশি নিরাপদ_ সম্প্রতি এমনটি দাবি করলেন ব্রিটিশ গবেষকরা। তাদের মতে, যেসব উপাদান দিয়ে প্লাস্টিকের বোতল তৈরি হয়, তা পানিতে এমন কিছু রাসায়নিক উপাদান ছড়িয়ে দেয়, যা পরে সংক্রমণ ছড়ানোর কারণ হয়ে উঠতে পারে। গবেষণায় দেখা যায়, একজন ব্রিটিশ বছরে ৩৩ লিটার বোতলজাত পানি পান করেন। তাদের ধারণা, ট্যাপের পানির চেয়ে বোতলের পানি অধিক
নিরাপদ। গবেষকরা বলছেন, বোতলের পানি বেশি নিরাপদ এ ধারণা ভুল। যদিও এর মূল্য ট্যাপের পানির চেয়ে এক হাজার গুণ বেশি। গবেষকদের মতে, সাধারণ মানুষ জানে না, ট্যাপের পানি প্রতিদিন পরীক্ষা-নিরীক্ষা করা হয়। এতে প্রতিনিয়ত ক্লোরিন দেওয়া হয়, যা ব্যাকটেরিয়া প্রতিরোধ করে। অন্যদিকে বোতলজাত পানির ক্ষেত্রে প্রস্তুতকারক কোম্পানিগুলো বোতল প্রস্তুতের সময় মাত্র একবার পরীক্ষা করেন। এরপর বোতলে সিল মারা হয়ে গেলে এগুলো বিক্রির আগে মাসের পর মাস সংরক্ষণ করে রাখা হয়। এ ছাড়া বোতালজাত পানীয়তে ব্যাকটেরিয়া বিধ্বংসী ক্লোরিনও ব্যবহার করা হয় না। গ্গ্নাসগো বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক পল ইয়ঙ্গার বলেন, 'সারাবিশ্বের মধ্যে ব্রিটেনে ট্যাপের পানি সবচেয়ে বেশি নিরাপদ। কিন্তু সস্তায় পাওয়ার কারণে মানুষ মনে করে, এটি বোতলজাত পানির চেয়ে কম নিরাপদ। এ ছাড়া অনেকেই পানির বোতল খোলার সঙ্গে সঙ্গে সবটুকু না পান না করে পরে পান করার জন্য রেখে দেন। এ সময়ের মধ্যে পানিতে জীবাণু প্রবেশ করতে পারে। ট্যাপের পানি পান করলে এ ঝুঁকি থাকে না। ডেইলি মেইল।
বৃহস্পতিবার | ৩ জানুয়ারি ২০১৩ 

ধূমপান ছাড়লে দুশ্চিন্তা কমে

বিজ্ঞানীরা যা বলেন-৪
ধূমপান ছাড়লে দুশ্চিন্তা কমে

সমকাল ডেস্ক
ধূমপায়ীরা অনেক সময় দাবি করেন, ধূমপানে মানসিক চাপ কমে। কিন্তু এ দাবি সত্য নয়। বরং ধূমপান ছেড়ে দিলেই মানসিক চাপ, দুশ্চিন্তা বা উদ্বেগ কমে। ব্রিটিশ গবেষকরা ৪৯১ ধূমপায়ীকে নিয়ে গবেষণা চালানোর পর বলছেন, নিকোটিন উপকারী_ এমন দাবি যথার্থ নয়। এই ধূমপায়ীদের সবাই ধূমপান ছেড়ে দেওয়ার চেষ্টা চালাচ্ছেন এবং ব্রিটেনের ন্যাশনাল হেলথ সার্ভিসের একটি কর্মসূচিতে যুক্ত। ধূমপান ছাড়ার জন্য
তাদের পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে এবং ধূমপানের আসক্তি সাময়িকভাবে কাটিয়ে উঠতে তাদের অন্য উপাদান খেতে দেওয়া হচ্ছে। এ কর্মসূচিতে তালিকাভুক্ত হওয়ার ছয় মাস পর ৪৯১ জনের মধ্যে ৬৮ জন জানান, তারা ধূমপান পুরোপুরি ছেড়ে দিয়েছেন। আগের তুলনায় তারা এখন দুশ্চিন্তা বা মানসিক চাপ কম অনুভব করেন। ক্যামব্রিজ ও অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয় এবং কিংস কলেজ অব লন্ডনের গবেষকরা এ গবেষণা চালান। তারা বলছেন, ধূমপান ছেড়ে দেওয়ার কথা ভাবছেন এমন লোকদের জন্য এটি উদ্দীপনামূলক এক নতুন বার্তা। বিবিসি, ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস অনলাইন।
বৃহস্পতিবার | ৩ জানুয়ারি ২০১৩

স্ত্রীরা এখন বেশি শিক্ষিত

বিজ্ঞানী/গবেষকরা যা বলেন।
স্ত্রীরা এখন বেশি শিক্ষিত


সমকাল ডেস্ক
উচ্চ শিক্ষিত মেয়ের বর জুটছে অপেক্ষাকৃত কম শিক্ষিত_ আজকাল এমনটি ঘটছে অহরহ। বাংলাদেশসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশে এ প্রবণতা বেড়েই চলেছে। শিক্ষায় স্বামীদের ছাড়িয়ে যাচ্ছে স্ত্রীরা। সাম্প্রতিক এক জরিপে এ তথ্য তুলে ধরা হয়েছে। স্পেনের ইউনিভার্সিটি অটোনমা ডি বার্সেলোনার জনসংখ্যা শিক্ষাকেন্দ্রের গবেষকরা ৫৬টি দেশের ১৩৮টি আদমশুমারি রিপোর্ট নিয়ে এ জরিপ চালান। তারা এমন অনেক দম্পতি
দেখতে পান, যাদের স্ত্রী বিশ্ববিদ্যালয়ের উচ্চতর ডিগ্রিধারী আর স্বামী তুলনামূলক কম শিক্ষিত।
আগে নারী শিক্ষার হার পুরুষের তুলনায় কম ছিল। কিন্তু দিন দিন সে অবস্থার পরিবর্তন ঘটেছে। নারী শিক্ষার প্রসার ঘটেছে বিশ্বজুড়ে। নারী শিক্ষা সহজও হয়েছে। তাই ঐতিহ্যগত বিষয়টি উল্টে উচ্চ শিক্ষিত পুরুষের চেয়ে উচ্চ শিক্ষিত নারীর সংখ্যা বেড়ে যাচ্ছে। তবে এ ক্ষেত্রে পারিবারিক জীবনে তেমন কোনো সংকট হচ্ছে না বলে লক্ষ্য করেছেন গবেষকরা।
গবেষক দলের অন্যতম আলবার্ট এসতেব বলেন, নারী শিক্ষার হার বেশি হওয়ায় বিয়ের বাজারে বড় ধরনের প্রভাব পড়লেও পরিবারে এমন দম্পতিরা বেশ মানিয়ে চলছেন। তিনি বলেন, তবে জীবনযাত্রায়, যেমন_ সিদ্ধান্ত গ্রহণ, গৃহস্থালি কর্ম ভাগাভাগি, বিবাহ বিচ্ছেদ, সন্তান গ্রহণের ক্ষেত্রে এককভাবে পুরুষের মত চাপিয়ে দেওয়ার ঘটনা এখন আর চলছে না। সূত্র :টাইমস অব ইন্ডিয়া।

সূর্য আজ পৃথিবীর খুব কাছে

বিজ্ঞানীরা যা বলেন-৩ সূর্য আজ পৃথিবীর খুব কাছে সমকাল ডেস্ক
আলোসখা সূর্যের পরম সানি্নধ্যে আজ যেন আপ্লুত হবে প্রিয়া বসুধা, আমাদের এই পৃথিবী। চলে আসবে সবচেয়ে কাছে। নক্ষত্রপ্রেমীরা আজ সকালে দেখবেন এই মধুর মিলন। পৃথিবীসহ সৌরজগতের প্রতিটি গ্রহই সূর্যের চারপাশে নির্দিষ্ট কক্ষপথে পরিক্রমণ করে। সৌরজগতের গ্রহগুলো মাঝেমধ্যে সূর্যের সবচেয়ে কাছের বিন্দুতে চলে যায়। এটিকে বলে অনুসূর (ঢ়বৎরযবষরড়হ)। আবার গ্রহটি মাঝেমধ্যে সূর্য থেকে সবচেয়ে
দূরের বিন্দুতে অবস্থান করে। এটিকে বলে অপসূর (ধঢ়যবষরড়হ)।
এই নিয়মে প্রতি বছর জানুয়ারির প্রথম দু'দিন সূর্যের সবচেয়ে কাছাকাছি থাকে পৃথিবী। আর জুলাই মাসে চলে যায় সূর্যের সবচেয়ে দূরে।
আজ ২ জানুয়ারি পৃথিবীর অনুসূর। অনুসূরের ইংরেজি 'পেরিহিলিয়ন' (ঢ়বৎরযবষরড়হ) শব্দটি গ্রিক পেরি অর্থাৎ 'সানি্নধ্যে বা খুব কাছে' এবং হেলিস মানে 'সূর্য' থেকে এসেছে। তাই পৃথিবীর অনুসূর অর্থাৎ সূর্যের খুব কাছে চলে যাওয়াকে বলা যায় প্রিয়সানি্নধ্য।
নয়াদিলি্লভিত্তিক জ্যোতির্গবেষকদের সংগঠন 'ভারতীয় প্লানেটারি সোসাইটি'র সাধারণ সম্পাদক এন রঘুনাথ কুমার বলেন, আজ স্থানীয় সময় সকাল ১০টা ১০ মিনিটে সূর্যের সবচেয়ে কাছের বিন্দুতে অবস্থান করবে পৃথিবী। আর আগামী ৫ জুলাই সবচেয়ে দূরের বিন্দুতে অবস্থান করবে। তবে আজ অনুসূর হওয়ায় তাপমাত্রা বেড়ে যাবে না। সূত্র :পিটিআই।
২ জানুয়ারি ২০১৩ 
undefined

উত্তেজনা স্বাস্থ্যের জন্য ভালো!


বিজ্ঞানীরা যা বলে-২





উত্তেজনা স্বাস্থ্যের জন্য ভালো:
সমকাল ডেস্ক
খেপে গেলে বা হঠাৎ উত্তেজিত হলে শরীরের ক্ষতি হয় এমনটিই জানি আমরা। তাই কেউ রেগে গেলে তাকে নিবৃত্ত করাটাই প্রধান চেষ্টা হয়ে ওঠে আশপাশের সবার। তবে সম্প্রতি এক গবেষণায় জানা গেছে, উত্তেজনাও স্বাস্থ্যের জন্য ভালো। যুক্তরাষ্ট্রের রসেস্টার বিশ্ববিদ্যালয়ের মেডিকেল সেন্টারের গবেষকরা এক হাজার আমেরিকানের ওপর জরিপ চালিয়ে
দাবি করেন, উত্তেজনা শরীরের জন্য উপকারী। গবেষকরা জরিপে সব ব্যক্তির কোলেস্টেরলের মাত্রা, রক্তচাপসহ বিভিন্ন তথ্য সংগ্রহ করেন। জানা গেছে, সামান্যতেই উত্তেজিত হয়ে পড়েন যেসব ব্যক্তি, তাদের রক্তচাপ ও অন্যান্য শারীরিক অবস্থা অন্যদের চেয়ে স্বাভাবিক। গবেষকরা উত্তেজনার দুটি রূপ বর্ণনা করেছেন। একটি অস্বাস্থ্যকর অন্যটি স্বাস্থ্যকর। দেখা গেছে, কারও কারও ক্ষেত্রে উত্তেজনার ফলে শারীরিক অনেক অসুবিধা দূর হয়। তবে বিষয়টি নিয়ে আরও গবেষণার পর তারা পূর্ণ সিদ্ধান্তে আসবেন বলে জানিয়েছেন গবেষক দলের একজন প্রতিনিধি। সূত্র পিটিআই।

বিজ্ঞানীরা যা বলে-১
সন্ত্রাসবাদের মতোই ভয়ঙ্কর

সমকাল ডেস্ক
সার্জারিসহ নানা রোগে চিকিৎসকরা অ্যান্টিবায়োটিক দিয়ে থাকেন। বর্তমানে অ্যান্টিবায়োটিকেও পুরো কাজ হচ্ছে না। রোগের প্রধান কারণ ভাইরাস কিংবা ব্যাকটেরিয়া দিন দিনই হয়ে উঠছে অ্যান্টিবায়োটিক প্রতিরোধী। এমন পরিস্থিতিকে সন্ত্রাসবাদের মতোই ভয়ানক হুমকি হিসেবে দেখছেন চিকিৎসাবিজ্ঞানীরা। এতে যে কোনো সময়ে শুরু হয়ে যেতে পারে বিভীষিকাময় মৃত্যুর মিছিল। এ ক্ষেত্রে তারা অ্যান্টিবায়োটিকের
যত্রতত্র ব্যবহার, শরীরে এর কার্যকারিতা হ্রাস পাওয়া ইত্যাদিকে দায়ী করছেন।
অ্যান্টিবায়েটিক প্রতিরোধী এ পরিস্থিতিতে মৃত্যু-বিভীষিকার হুশিয়ারি দিয়েছেন যুক্তরাজ্যের প্রধান মেডিকেল কর্মকর্তা ড. ডেম সেলি ডেভিস। এ ভয়াবহতাকে তিনি বেসামরিক জরুরি অবস্থার সঙ্গে শামিল করতে সরকারের প্রতি অনুরোধ জানিয়েছেন। খবর ডেইলি মেইল অনলাইনের।
হাউস অব কমন্সের বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিবিষয়ক কমিটির এক সভায় এমপিদের সামনে দেওয়া ভাষণে শনিবার ব্রিটেনের এই প্রধান চিকিৎসক বলেন, অ্যান্টিবায়োটিক প্রতিরোধী রোগের বিস্তার এমন ভয়ানক পরিস্থিতির সৃষ্টি করতে পারে, যাকে ধ্বংসাত্মক সন্ত্রাসী হামলার সঙ্গে তুলনা করা যায়।
ডেম সেলি হুশিয়ারি জানান, আগামী ২০ বছরের মধ্যে এমন পরিস্থিতি দাঁড়াবে যে, সামান্য অস্ত্রোপচারেও রোগী ইনফেকশনে মারা যাবে। এর কারণ অ্যান্টিবায়োটিকের কার্যকারিতা কমে যাওয়া।
সভায় জানানো হয়, এরই মধ্যে কিছু অ্যান্টিবায়োটিকের কার্যকারিতা নিঃশেষ হয়ে গেছে। স্টাফিলোকোকাল ইনফেকশনের ক্ষত নিরাময়ে পেনিসিলিন আর কাজ করছে না। মূত্রথলির সংক্রমণে এমপিসিলিন আর গনোরিয়ার ক্ষেত্রে সিপ্রোফ্লোক্সাসিনও এখন অকার্যকর।